দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানে বাল্যবিয়েকে প্রথমবারের মতো আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তালেবান সরকার। গত সপ্তাহে অনুমোদিত নতুন একটি বিবাহ আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি বৈধতা আরও সহজ হয়ে যাবে বলে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নতুন এই ‘বিতর্কিত’ আইন কার্যকর হলে কোনো নারী বা তরুণীর পক্ষে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদ নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্বামী রাজি না থাকলে বা অনুপস্থিত থাকলেও এককভাবে ডিভোর্সের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের বিয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর ১১ বছরের বেশি বয়সী কিশোরীদের বাল্যবিয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি বেসরকারি খসড়া সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর আফগানিস্তানের প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে কম বয়সে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
নতুন আইনে বলা কাঠামো অনুযায়ী, কোনো মেয়ে যদি দাবি করে যে তার অমতে বিয়ে হয়েছে, তবুও স্বামীর সম্মতি ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া কঠিন হবে। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলে বা ভরণপোষণ না দিলেও এককভাবে ডিভোর্সের সুযোগ সীমিত থাকবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই আইনকে কেন্দ্র করে কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে নারী অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি নারীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন ইউনামা এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এই ধরনের আইন নারী ও কিশোরীদের অধিকার হরণের আরেকটি বড় ধাপ। তবে তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, এ ধরনের আন্দোলন ইসলামিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান।
আফগানিস্তানের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েরা পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি দাইকুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যাকে বিয়ের পর স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইন আফগান সমাজে নারীর অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দেবে এবং বাল্যবিয়েকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করবে।
এমএস/